পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে বছরে ₹৫ লক্ষ পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা
কলকাতা, ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প স্বাস্থ্য সাথী (Swasthya Sathi Scheme) রাজ্যের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি পরিবারকে বছরে সর্বোচ্চ ₹৫ লক্ষ পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় একটি পরিবারের সকল সদস্য—স্বামী, স্ত্রী, অবিবাহিত সন্তান, বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি—কোনো সংখ্যা সীমা ছাড়াই কভারেজ পান।
এই প্রকল্পে হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা (IPD), ডে-কেয়ার চিকিৎসা, ভর্তি হওয়ার আগে ৩০ দিন এবং ছাড়পত্রের পর ৯০ দিন পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজ্য জুড়ে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১০,০০০-এরও বেশি নেটওয়ার্ক হাসপাতাল এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রয়োজনে অন্য রাজ্যের নির্দিষ্ট হাসপাতালেও এই কার্ড ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই প্রকল্পে পরিবারকে কোনো প্রিমিয়াম বা ফি দিতে হয় না—সম্পূর্ণ খরচ বহন করে রাজ্য সরকার।
কারা এই সুবিধা পাবেন
এই প্রকল্পে কোনো আয় বা বয়সসীমা নেই। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হলেই পরিবারের সকল সদস্য এই সুবিধার আওতায় আসবেন। শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পান।
২০২৬ সালের বাজেটে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে গিগ ওয়ার্কার ও অসংগঠিত শ্রমিকরাও এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
বর্তমানে রাজ্যের ২.৫ কোটিরও বেশি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত।
বাদ পড়ার কারণ
খুব সীমিত ক্ষেত্রেই কেউ এই প্রকল্পের বাইরে থাকেন। মূলত যারা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা নন বা ডুপ্লিকেট কার্ডের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকে, তারাই বাদ পড়তে পারেন। আয়, ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হয় না।
কীভাবে কার্ড পাবেন
স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পেতে অনলাইন ও অফলাইন—দু’ভাবেই আবেদন করা যায়।
দুয়ারে সরকার ক্যাম্প, গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস, মিউনিসিপ্যালিটি বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সাথী ক্যাম্পে গিয়ে অফলাইনে আবেদন করা যায়।
অনলাইনে আবেদন করা যাবে সরকারি ওয়েবসাইট swasthyasathi.gov.in-এ।
আধার কার্ড, রেশন কার্ড বা ভোটার আইডি এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিয়ে আবেদন করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল কার্ড ইস্যু করা হয়।
কোন কোন চিকিৎসা কভার করে
এই প্রকল্পে ক্যান্সার চিকিৎসা, হার্ট সার্জারি, কিডনি ডায়ালাইসিস, ট্রান্সপ্লান্ট, বড় ধরনের অপারেশনসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পরিষেবা ক্যাশলেসভাবে পাওয়া যায়।

0 Comments