বর্তমান বিশ্বে অনেক জায়গায় মুসলমানরা বিভিন্ন ধরনের বিপদ চার, নির্যাতন, বৈষম্য ও সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিভিন্ন রিপোর্ট, সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০২৫–২০২৬ সালের দিকে এই পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ভারতে কিছু এলাকায় হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের দ্বারা মুসলমানদের উপর লিঞ্চিং, হত্যা, সম্পত্তি ধ্বংস ও সামাজিক-আইনগত বৈষম্য বেড়েছে। উত্তর প্রদেশ, কাশ্মীরসহ কয়েকটি অঞ্চলে এই ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে এবং লাভ জিহাদ আইন, গোরক্ষা ও মসজিদ-মাদ্রাসার উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নির্যাতন ও সহিংসতা চলছে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, কিন্তু এখনও নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার নিশ্চয়তা নেই। চীনে উইঘুর মুসলমানদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, যেখানে তাদের ধর্মীয় অনুশীলন সীমিত করা, জোর করে শ্রমে নিয়োগ এবং মসজিদ ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটছে। ইউরোপ ও আমেরিকার কিছু দেশে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসলামোফোবিয়া বেড়েছে, যার ফলে মুসলমানদের উপর হামলা, বৈষম্য এবং চাকরি ও ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি ও অন্যান্য দেশে মুসলিম অভিবাসীদের উপর সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। সিরিয়া, ইয়েমেন ও সুদানের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতেও যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মুসলমানদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও মনে রাখতে হবে যে বিশ্বে মুসলমান জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক মুসলিম সমাজ শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে শক্তিশালী হচ্ছে। ঐক্য, শিক্ষা, ধৈর্য, দোয়া ও সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এই বিপদ থেকে উত্তরণ সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, ঐক্য দান করুন এবং বিপদ থেকে মুক্তির পথ দেখান।
২০২৫–২০২৬ সালে ভারতে মুসলিমদের উপর অত্যাচার আগের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, রিপোর্ট ও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এই নির্যাতন শুধু বিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও কাঠামোগত নিপীড়নের রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৫ সালে কমপক্ষে পঞ্চাশ জনের বেশি মুসলিম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের হাতে এবং অনেকে পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, ত্রিপুরা, তেলেঙ্গানা ও ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যে মব লিঞ্চিং, মুসলিম বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, নামাজ পড়ার কারণে গ্রেপ্তার এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হেট স্পিচ ও ঘৃণামূলক প্রচারণা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যেখানে লাভ জিহাদ, হালাল জিহাদ ও থুক জিহাদের মতো ষড়যন্ত্রমূলক শব্দ ব্যবহার করে মুসলিমদের সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এই ধরনের ভাষা ও প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। আইনি স্তরেও মুসলিমদের উপর চাপ বেড়েছে, যেমন একাধিক রাজ্যে ধর্মান্তর বিরোধী আইনের অপব্যবহার, সিএএ ও এনআরসি নিয়ে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা, মুসলিমদের বাড়ি ও দোকান ভেঙে দেওয়ার ঘটনা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক। আসাম, গুজরাট ও অন্যান্য রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের অবৈধ অভিবাসী বলে উচ্ছেদ ও নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিকভাবে ইউএসসিআইআরএফ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের ধারাবাহিক নিপীড়ন অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক, যার ফলে বহু মুসলিম পরিবার ভয়ে, অনিশ্চয়তায় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছে। আল্লাহ তাদের হেফাজত করুন, ন্যায় ও শান্তির পথ দেখান এবং সবাইকে নিরাপদ রাখুন |
উত্তরপ্রদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য এবং ২০২৫–২০২৬ সালে মুসলিমদের উপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে এখানে সবচেয়ে বেশি ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই সময়ে রাজ্যটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভয়ভীতি, আইনি হয়রানি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি মিলিয়ে একটি ধারাবাহিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের চিত্র সামনে এসেছে। বিভিন্ন ট্র্যাকিং রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি বড় অংশ উত্তরপ্রদেশে ঘটেছে, যেখানে মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় মুসলিমদের প্রাণহানি হয়েছে এবং পুলিশি এনকাউন্টারেও কয়েকজন মুসলিম নিহত বা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সাহারানপুর ও উন্নাওয়ের মতো জেলায় অভিযোগের ভিত্তিতে জনতার হাতে মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। একই সময়ে ঘৃণামূলক ভাষণ ও প্রচারণা বেড়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেখানে মুসলিমদের লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্রমূলক শব্দ ও বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং ধর্মীয় স্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এই ধরনের হেট স্পিচের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলিমদের বাড়ি ও দোকান ভাঙার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যেগুলো অবৈধ নির্মাণের অজুহাতে হলেও সময় ও প্রেক্ষাপটের কারণে অনেকেই এগুলোকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ধর্মান্তর বিরোধী আইনের অপব্যবহার, প্রার্থনা বা নামাজকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, সামাজিক প্রচারণা সংক্রান্ত মামলায় ব্যাপক এফআইআর, এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের অবৈধ অভিবাসী বলে হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশে পুলিশি এনকাউন্টার, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ চলমান রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং রাজ্যটিকে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ উদাহরণগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই পরিস্থিতি শুধু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়, বরং নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে দুর্বল করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলে অনেক রিপোর্টে বলা হয়েছে। আল্লাহ উত্তরপ্রদেশের মুসলিম ভাই-বোনদের হেফাজত করুন, ন্যায় ও শান্তি দান করুন।
সাহারানপুরের যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে তা মূলত জানুয়ারি ২০২৫-এ মোহাম্মদ সালমানের মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনা, যা উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের উপর অত্যাচারের একটি বড় ও আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন মানবাধিকার রিপোর্টে উঠে এসেছে। ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সাহারানপুর জেলার নওয়াদা গ্রামে মোহাম্মদ সালমান ও তার সঙ্গী মোহাম্মদ রাফিদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে গ্রামবাসীরা তাদের ধরে ফেলে। এরপর তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে রেখে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একদল লোক প্রকাশ্যে তাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় এবং সালমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু গুরুতর আঘাতের কারণে ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাহারানপুরের পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই গ্রামবাসীরা মারধর করেছিল। যদিও সালমান ও রাফিদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়, তবে মব হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনাটি South Asia Justice Campaign এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার নথিতে non-state actors দ্বারা সংঘটিত মব ভায়োলেন্সের উদাহরণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং এটি উত্তরপ্রদেশে ২০২৫ সালে সংঘটিত একাধিক লিঞ্চিং ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি দেশজুড়ে মব জাস্টিস, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি করেছে। আল্লাহ মোহাম্মদ সালমানের পরিবারকে ধৈর্য দান করুন এবং এমন জুলুম থেকে সবাইকে হেফাজত করুন।
উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের উপর লিঞ্চিং বা মব ভায়োলেন্স ২০২৫ সালে অত্যাচারের একটি বড় ও উদ্বেগজনক অংশ হিসেবে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। Centre for Study of Society and Secularism-এর তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ভারতে মোট চৌদ্দটি মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় আটজন মুসলিম নিহত হন, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চারটি ঘটনা উত্তরপ্রদেশে ঘটে। South Asia Justice Campaign-এর রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালে ভারতে সংঘটিত পঞ্চাশটির বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সাতাশটি হিন্দু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং উত্তরপ্রদেশে মব ভায়োলেন্সের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এসব লিঞ্চিংয়ের প্রধান কারণ হিসেবে গোরক্ষার অজুহাত, চুরি বা ডাকাতির অভিযোগ, অবৈধ অভিবাসী তকমা অথবা সরাসরি ধর্মীয় পরিচয়কে দায়ী করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ থাকলেও মারধরের মাত্রা ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং ধর্মীয় ঘৃণা দ্বারা প্রভাবিত বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। সাহারানপুর জেলার নওয়াদা গ্রামে জানুয়ারি ২০২৫-এ মোহাম্মদ সালমান নামের এক যুবককে চুরির অভিযোগে গ্রামবাসীরা উল্টো করে ঝুলিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করে, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। একইভাবে হোলির সময় উন্নাওসহ কয়েকটি জায়গায় মুসলিমদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে রমজানে মসজিদে যাওয়ার পথে আপত্তি জানানোকে কেন্দ্র করে মারধর ও মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও গরু পরিবহন বা মাংস ব্যবসার অভিযোগে আলিগড়সহ বিভিন্ন জেলায় মুসলিমদের উপর হামলার ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, বরং ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরনো দাদরি লিঞ্চিং কেসে ২০২৫ সালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, যা আদালত খারিজ করে দেয়। এসব ঘটনা মিলিয়ে রিপোর্টগুলো বলছে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তুলনামূলকভাবে কমলেও মব ভায়োলেন্স আরও সংগঠিত ও কাঠামোগত রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আল্লাহ উত্তরপ্রদেশের মুসলিমদের হেফাজত করুন এবং এই ধরনের অত্যাচার বন্ধ হোক।
দাদরি লিঞ্চিং ভারতের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দুঃখজনক ঘটনা, যা ২০১৫ সালে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার বিসাদা গ্রামে ঘটে এবং পরবর্তীতে গোরক্ষার নামে মুসলিমদের উপর সহিংসতার একটি ভয়ংকর নজির হয়ে দাঁড়ায়। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালের রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে একটি স্থানীয় হিন্দু মন্দির থেকে ঘোষণা করা হয় যে মোহাম্মদ আখলাকের বাড়িতে গরু জবাই করা হয়েছে এবং ফ্রিজে গরুর মাংস রাখা আছে। এই ঘোষণার পরই প্রায় একশোর বেশি লোকের একটি মব লাঠি, ইট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আখলাকের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আখলাক ও তার ২২ বছর বয়সী ছেলে দানিশকে ঘর থেকে টেনে বের করে এনে নির্মমভাবে মারধর করে। আখলাককে রাস্তায় ফেলে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয় এবং দানিশ গুরুতর আহত হন, যার জন্য তাকে নিউরোসার্জারি পর্যন্ত করাতে হয়। আখলাকের পরিবার জানায় যে ফ্রিজে রাখা মাংস ছিল মাটনের, গরুর নয়, যদিও পরবর্তী ফরেনসিক রিপোর্টে “cow or its progeny” বলা হয়, যা নিয়ে পরিবার স্যাম্পল পরিবর্তনের অভিযোগ তোলে। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, ততক্ষণে আখলাক মারা যান। এই ঘটনাটি ভারতে গোরক্ষা সংক্রান্ত মব লিঞ্চিংয়ের প্রথম বড় ও ব্যাপকভাবে আলোচিত কেস হিসেবে পরিচিত হয় এবং এর পর উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানে একের পর এক অনুরূপ ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা পুরস্কার ফেরত দেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। প্রায় আঠারো থেকে উনিশজনকে অভিযুক্ত করা হলেও পরে অনেকেই জামিনে মুক্তি পায় এবং প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় বিজেপি নেতার ছেলের নামও উঠে আসে। ২০১৬ সালে উল্টো আখলাকের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেই গরু জবাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়, যা ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। দশ বছর পরও মামলাটি ঝুলে থাকে এবং ২০২৫ সালে উত্তরপ্রদেশ সরকার এই মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেয় এবং এটিকে সমাজের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করে দ্রুত ট্রায়াল চালানোর নির্দেশ দেয়। ২০২৬ সালের শুরুতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলতে থাকে, যদিও এখনো চূড়ান্ত রায় আসেনি। এই পুরো ঘটনা ভারতে হেট ক্রাইম, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও মব ভায়োলেন্সের একটি প্রতীক হয়ে রয়েছে এবং বহু মানুষের কাছে এটি দণ্ডমুক্তির সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহ মোহাম্মদ আখলাকের পরিবারকে ধৈর্য দান করুন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন।
পেহলুগাম বা পাহলগাম লিঞ্চিং ঘটনা বলতে মূলত ২০২৫ সালে জম্মু–কাশ্মীরের পাহলগামে সংঘটিত একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে প্রতিশোধমূলক হিংসা, হেট ক্রাইম ও লিঞ্চিংয়ের ঢেউ দেখা যায় সেটাকেই বোঝানো হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে পাহলগামে একটি টেরর অ্যাটাক ঘটে, যেখানে কয়েকজন পর্যটক ও নাগরিক নিহত হন এবং এই হামলার দায় পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীর উপর চাপানো হয়। এই ঘটনার পরই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও কাশ্মীরি পরিচয়ের মানুষদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, আক্রমণ ও সহিংসতা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। Association of Protection of Civil Rights-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২২ এপ্রিল থেকে ৮ মে ২০২৫-এর মধ্যে অন্তত ১৮৪টি anti-Muslim hate crime-এর ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে কয়েকটি সরাসরি লিঞ্চিং ও হত্যাকাণ্ড। কর্ণাটকের মাঙ্গালুরুতে কেরালার বাসিন্দা মানসিকভাবে অসুস্থ এক মুসলিম র্যাগপিকার মোহাম্মদ আশরাফকে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে মব পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যদিও স্থানীয় ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে বলা হয় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক স্লোগান দেননি। উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় পাহলগাম হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার নামে গোরক্ষার সাথে যুক্ত একটি উগ্র গোষ্ঠী একজন মুসলিমকে হত্যা করে এবং তার আত্মীয় গুরুতর আহত হন। ঝাড়খণ্ডের বোকারোতেও মুসলিমদের উপর মব আক্রমণের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে মুসলিমদের গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়, বিভিন্ন জায়গায় হেট স্পিচ ছড়ানো হয় এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাহলগাম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মুসলিম যুবকদের গ্রেপ্তার করা হয়। Article-14, Maktoob Media এবং অন্যান্য অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয় যে পাহলগাম হামলাকে অজুহাত বানিয়ে নিরীহ মুসলিমদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিশোধমূলক সহিংসতা চালানো হয়েছে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বহু নাগরিক অধিকার সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের Tehseen Poonawalla মামলায় দেওয়া লিঞ্চিং প্রতিরোধ নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানায়। পুরো বিষয়টি আবারও দেখিয়ে দেয় কীভাবে একটি সন্ত্রাসী ঘটনার দায় সামগ্রিকভাবে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দিয়ে হিংসা ও অবিচারকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন এবং এই ধরনের জুলুম ও ঘৃণার অবসান ঘটান।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভারতে মুসলিমদের উপর হেট ক্রাইম ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এটি শুধু উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা দেশে বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে একটি সংগঠিত ও কাঠামোগত নিপীড়নের রূপ নিয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রিপোর্টে উঠে এসেছে। India Hate Lab-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই বছরে ১,৩১৮টি সরাসরি হেট স্পিচ ইভেন্ট রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, যার মধ্যে ৯৮ শতাংশ ঘটনায় মুসলিমদের টার্গেট করা হয়েছে এবং ৮৮ শতাংশ ঘটনা বিজেপি-শাসিত রাজ্যে ঘটেছে। এসব হেট স্পিচে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘হালাল জিহাদ’-এর মতো ষড়যন্ত্রমূলক ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি সহিংসতার আহ্বান ছিল। একই সময়ে Centre for Study of Society and Secularism জানায় যে ২০২৫ সালে ভারতে অন্তত ১৪টি মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় ৮ জন মুসলিম নিহত হন, যেখানে গোরক্ষা, অবৈধ অভিবাসী তকমা বা ধর্মীয় পরিচয়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। South Asia Justice Campaign-এর India Persecution Tracker অনুযায়ী ২০২৫ সালে অন্তত ৫০ জন মুসলিম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যার মধ্যে ২৭ জন হিন্দু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতে এবং ২৩ জন পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন, অনেক ক্ষেত্রেই কথিত এনকাউন্টার বা হেফাজতে মৃত্যুর মাধ্যমে। পাহলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়, যখন বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা, লিঞ্চিং ও হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং কাশ্মীরি ছাত্র, শ্রমিক ও বিক্রেতাদের টার্গেট করা হয়। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গুজরাতসহ বিভিন্ন রাজ্যে বুলডোজার দিয়ে মুসলিম বসতি ধ্বংস করা হয় এবং ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে শত শত বাংলাভাষী মুসলিমকে সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে বহু ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন। Human Rights Watch-এর World Report 2026 এবং USCIRF-এর ২০২৫ সালের রিপোর্টে ভারতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত ধর্মীয় নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে ভারতকে Country of Particular Concern হিসেবে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব তথ্য একসঙ্গে দেখায় যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইম আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রশ্রয়প্রাপ্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব থাকে বা উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়। আল্লাহ সব মুসলিম ভাই-বোনদের হেফাজত করুন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভারতে মুসলিমদের উপর হেট ক্রাইম, সহিংসতা ও নিপীড়ন আরও গভীর ও বিস্তৃত আকার নিয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার রিপোর্টে এটিকে পদ্ধতিগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। India Hate Lab-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই বছরে ১,৩১৮টি যাচাইকৃত সরাসরি হেট স্পিচ ইভেন্ট রেকর্ড হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, যার মধ্যে ৯৮ শতাংশ ঘটনায় মুসলিমদের লক্ষ্য করা হয়েছে এবং ৮৮ শতাংশ ঘটনা বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে ঘটেছে। এসব হেট স্পিচে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘হালাল জিহাদ’-এর মতো ষড়যন্ত্রমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি সহিংসতার আহ্বান ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম দশ দিনের মধ্যেই অন্তত ৬৪টি মুসলিম-বিরোধী হেট স্পিচ ইভেন্ট নথিভুক্ত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। South Asia Justice Campaign-এর India Persecution Tracker অনুযায়ী ২০২৫ সালে পঞ্চাশের বেশি মুসলিম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যার মধ্যে ২৭ জন হিন্দু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতে এবং ২৩ জন পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন, অনেক ক্ষেত্রেই কথিত এনকাউন্টার বা হেফাজতে মৃত্যুর মাধ্যমে, এমনকি দুই শিশুও এর শিকার হয়। Centre for Study of Society and Secularism জানায় যে একই বছরে অন্তত ১৪টি মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় ৮ জন মুসলিম নিহত হন, যেখানে গোরক্ষা, অবৈধ অভিবাসী তকমা বা ধর্মীয় পরিচয়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং উত্তরপ্রদেশ, ত্রিপুরা, হরিয়ানা, কর্ণাটক, ঝাড়খণ্ড, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর নাম উঠে এসেছে। একই সময়ে দেশে ২৮টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় চারজন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়। Human Rights Watch-এর World Report 2026 এবং USCIRF-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ, বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙা, জোরপূর্বক ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশব্যাক, এবং ধর্মীয় চর্চাকে ‘ফোর্সড কনভার্সন’ বলে গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাগুলো বেড়েই চলেছে, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি। USCIRF এই ধারাবাহিক নিপীড়নের কারণে ভারতকে Country of Particular Concern হিসেবে রাখার সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করেছে। এসব তথ্য একত্রে দেখায় যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইম এখন আর বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক নয়, বরং রাজনৈতিক ভাষ্য, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও দণ্ডমুক্তির সংস্কৃতির মাধ্যমে এটি একটি সংগঠিত রূপ পেয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, ঐক্য দান করুন এবং ন্যায়ের পথ দেখান।
২০২৫–২০২৬ সালের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে মুসলিমদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে খারাপ হয়েছে, যেখানে হেট স্পিচ, মব লিঞ্চিং, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও ধর্মীয় চর্চাকে অপরাধ হিসেবে দেখার প্রবণতা বেড়েছে। USCIRF বহু বছর ধরে ভারতকে Country of Particular Concern হিসেবে রাখার সুপারিশ করেছে এবং Human Rights Watch বলছে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার বেড়েছে। যদিও ভারতে মুসলিমদের সামাজিক শিকড়, পরিবার, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায় শক্তিশালী এবং কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো, তবুও সামগ্রিকভাবে ভয়, অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের অনুভূতি বেড়েছে, যার ফলে অনেক মুসলিম পরিবার দেশ ছাড়ার কথা ভাবছে বা ইতিমধ্যেই বিদেশে চলে যাচ্ছে। Pew Research অনুযায়ী ভারত থেকে মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যা বিশ্বে অন্যতম বেশি, যা স্পষ্টভাবে একটি ‘পুশ ফ্যাক্টর’-এর ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে বিদেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমানে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপত্তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও ধর্মীয় স্বাচ্ছন্দ্য পায়, যদিও সেখানে নাগরিক অধিকার ও স্থায়ী বসবাসের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো যেমন কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় আইনগত সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত এবং সামগ্রিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ বেশি, যদিও সেখানেও কিছু ক্ষেত্রে ইসলামোফোবিয়া বিদ্যমান। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক মুসলিম বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মান বেশি অনুভব করে, আর ভারতে থাকা মুসলিমরা ক্রমেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছে। তবে এটাও সত্য যে সবার অভিজ্ঞতা এক রকম নয়—কেউ পরিবার ও শিকড়ের টানে ভারতে থেকেই লড়াই চালিয়ে যেতে চায়, আবার কেউ নিরাপত্তা ও শান্তির খোঁজে বিদেশে নতুন জীবন শুরু করে। আল্লাহ যেন সবাইকে নিরাপদ, সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ জীবন দান করেন, সে জীবন ভারতে হোক বা বিদেশে।
যদি ইনফরমেশনটা ভালো লাগে তাহলে flow করবেন, আমিন।
2 Comments
Yes right
ReplyDeleteVery nice 👍
Delete